উইনের মৃত্যু নিয়ে পুলিশের বডি ক্যামের ভিডিও প্রকাশ

বাংলা পত্রিকা ডেস্ক
প্রকাশিত: ৫ মে ২০২৪, ২০:০৫
...
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত তরুণ উইন রোজারিও বাড়ির রান্নাঘরে মা ও ছোট ভাইয়ের সামনে পুলিশের গুলিতে নিহত হওয়ার ৩৬ দিন পর ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে।শুক্রবার পুলিশের বডি ক্যামেরার ভিডিও প্রকাশ করেন নিউ ইয়র্ক রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশা জেমস।

ভিডিও দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন উইনের মা নট্যান আভা কোস্টা, বাবা ফ্রান্সিস রোজারিও ও ছোট ভাই উৎস রোজারিও।

এ ঘটনায় উইনের পরিবারের এক বিবৃতিতে বলা হয়, “এক মাসের বেশি আগে উইনকে হারিয়েছি আমরা। আমাদের হৃদয় ভেঙে গেছে। প্রতিটি দিন, প্রতিটি ক্ষণ তার শূন্যতা গভীর বেদনার সঙ্গে অনুভব করছি। নিদারুণ এই কষ্ট থেকে পরিত্রাণ পাচ্ছি না। এ ভিডিও জনসম্মুখে প্রকাশের প্রয়োজন নেই।”

বিবৃতিতে বলা হয়, “যে ভিডিও প্রকাশ হয়েছে তাতে পুরোপরি স্পষ্ট যে উইনের বেঁচে থাকা উচিত ছিল। কিন্তু পুলিশ এসে আমাদের রান্নাঘরে তাকে হত্যা করল। আমাদের এবং উইনের সুরক্ষার পরিবর্তে পুলিশ কর্মকর্তারা উইনকে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় গুলি করার মত পরিস্থিতি তৈরি করলেন। তাই আমরা চাইছি, এ দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হোক এবং যত দ্রুত সম্ভব তাদের বিচারের আওতায় আনা হোক।”

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমের ভাষ্য অনুযায়ী, মানসিক ভারসাম্যহীন উইন রোজারিও গত ২৭ মার্চ দুপুরে নিউ ইয়র্ক সিটির ওজোনপার্ক এলাকায় তাদের বাসায় তার মা ও ভাইয়ের সঙ্গে অস্বাভাবিক আচরণ করলে ৯১১ এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা চাওয়া হয়। নিউ ইয়র্ক পুলিশের দুই কর্মকর্তা বাসায় এসে উইনকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেন। এক পর্যায়ে পুলিশ টেজার ব্যবহার করে।

পরে গুলি চালানোর প্রস্তুতি নিলে উইনের মা ছেলেকে জড়িয়ে ধরে পুলিশের প্রতি আকুতি জানান, যেন গুলি না করা হয়। তখন মানসিক ভারসাম্যহীন উইন আতঙ্কে চেয়ারের ওপরে রাখা মাছ-মাংস কাটার ছুরি নিয়ে পুলিশের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করলে তার ওপর গুলি চালান কর্মকর্তারা।

উইনের পরিবারের বিবৃতিতে বলা হয়, “প্রকাশিত ভিডিওতে এসব ঘটনা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।”উইনের মৃত্যুর পর থেকেই তার পরিবার এবং কমিউনিটির পক্ষ থেকে দাবি জানানো হচ্ছিল, পুলিশের বডি ক্যামেরার ফুটেজ প্রকাশ করা হোক। তবে নিউ ইয়র্ক পুলিশ বিভাগ তা আমলে নেয়নি। পরে রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল তা প্রকাশ করেন।

নিউ ইয়র্কের জাস্টিস কমিটির পক্ষ থেকে শুক্রবার দেওয়া বিবৃতিতে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক লইডা কলোন বলেন, “ভিডিওগুলো খুবই কষ্টদায়ক এবং তা মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার শামিল।

“উইনকে গুলি করার বিষয়ে নিউ ইয়র্ক পুলিশ যে বক্তব্য দিয়েছিল, তার সঙ্গে ভিডিওর কোনো মিল নেই। মুহূর্তের মধ্যে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় উইনকে হত্যা করা হয়েছে।”ঘটনায় সঙ্গে জড়িত দুই পুলিশ কর্মকর্তার নাম বিবৃতিতে দেওয়া হয়েছে। তারা হলেন- স্যালভেটর অ্যালোঙ্গি ও ম্যাথিউ সিয়ানফ্রকো।

দক্ষিণ এশীয়দের অধিকার ও মর্যাদা নিয়ে কাজ করা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘দেশিজ রাইজিং আপ অ্যান্ড মুভিং’ নিউ ইয়র্ক পুলিশের হাতে বারবার একই ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

উইনের পরিবারের নিয়োগ করা ল’ফার্ম বেলডোক লেভাইন অ্যান্ড হফম্যান এলএলপির পক্ষে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পুলিশ ওই তরুণকে গুলি করে ‘হত্যা করেছে’। দুই পুলিশ কর্মকর্তাকেই ‘বরখাস্ত করা উচিত’।জাকির হোসেনের ওপর হামলাকারীরা শনাক্ত হয়নি

এদিকে গত ৭ এপ্রিল নিউ ইয়র্ক সিটির জ্যামাইকায় হিলসাইড অ্যাভিনিউয়ের ১৬৮ নম্বর সড়কে দুর্বৃত্তের হামলায় আহত জাকির হোসেন তিন দিন পর মারা গেলেও এখনও শনাক্ত হয়নি হামলায় জড়িতরা।খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে ১২ মে কর্মসূচি দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে শেরপুর জেলা সমিতি।

সর্বশেষ

সর্বশেষ