নিউইয়র্কের ৬৬% স্কুল পুরোপুরি অ্যাকসেবেল নয়, ৪১% স্কুলে হুইলচেয়ার নিয়ে ঢোকাই যায় না


প্রকাশিত: ২৩ আগস্ট ২০২৩, ২০:০৮
...
মিয়া সিমসন হুইলচেয়ারে করে স্কুলে যায়। তার স্কুল পিএস ১৩৮। নিউইয়র্কের হারলেমের এই স্কুলে চতূর্থ গ্রেডে পড়ে মিয়া। স্কুলে তার সহপাঠীরা যখন সিঁড়ি ভেঙ্গে উপরে যায় তখন সে যেতে পারে না। কেবল তাকিয়ে দেখে। কারণ এই স্কুলে কোনো এলেভেটর নেই।

মিয়া সিমসনের ফিজিক্যাল থেরাপি চলছে। কিন্তু তার পক্ষে কোনোভাবেই সিঁড়ি ভেঙ্গে উপর নীচ করা সম্ভব নয়। ফলে এখন তার মা জুভানিয়া এসপিনো মেয়ের স্কুলটাই পাল্টাতে চাইছেন। ভাবছেন কোনো প্রাইভেট স্কুল নিয়ে যাবেন মেয়েকে। সিটি ব্যয়বহন করে এমন একটি স্কুলে নেওয়া হচ্ছে মিয়া সিমসনকে।

কিন্তু কিন্ডারগার্টেন থেকে যাদের সঙ্গে একই ক্লাসে পড়ে আসছে, তাদের সঙ্গে আর ফিফথ গ্রেড পড়া হবে না মেয়েটির।

এসপিনো বলেন, স্রেফ শারীরিক অক্ষমতার কারণে একটি শিশুকে সে যেখানে পড়তে চায় কিংবা যে স্কুলে যেতে আনন্দ পায় সেখানে পাঠানো সম্ভব হচ্ছে না। আমার ভীষণ খারাপ লাগে এই ভেবে যে স্কুল আমার শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জড মেয়েটির জন্য কোনো ব্যবস্থা রাখেনি।

একটি নতুন রিপোর্ট বলছে, নিউ ইয়র্কের মাত্র ৩৪% স্কুলে এমন শারীরিকভাবে অক্ষম বাচ্চাদের জন্য স্কুল ভবনে ঢোকার ব্যবস্থা রয়েছে। ২০১৮ সালের সবশেষ রিপোর্টের চেয়ে এখন পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকে। তবে বাকি ৬৬% স্কুলে এখনো এই ব্যবস্থা নেই।

আমেরিকানস উইথ ডিজ্যাবিলিটিস অ্যাক্ট আইনে পরিণত হওয়ার ত্রিশ বছর পরেও এই পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

এর মানেই হচ্ছে, যে শিশুরা হুইল চেয়ারে করে স্কুলে যেতে বাধ্য হচ্ছে তাদের সামনে সুস্থ্য অন্য শিশুদের চেয়ে চয়েজ অনেক কম। আর সে কারণে অনেক সময় অনেক স্কুলে তারা যেতেই পারছে না, কারণ স্কুলটিতে তাদের ঢোকার সুযোগটাই রাখা হয়নি।

নিউইয়র্ক সিটিতে ১৪০০ টি স্কুল ভবন রয়েছে। এর মধ্যে কোনো কোনো ভবনে একাধিক স্কুল চলে। এর মধ্যে:
- ৩৪% স্কুল ভবন পুরোপুরি অ্যাকসেসেবল
- ২০% আংশিক অ্যাকসেসেবল
- ৫% পুরোপুরি অ্যাকসেসেবল নয়
- ৪১% সম্পূর্ণভাবে ইনঅ্যাকসেসেবল

এএফসির সঙ্গামতে স্কুল ভবনে হুইলচেয়ার নিয়ে ঢুকতে পারলেও শ্রেণিকক্ষগুলো যদি নিচতলায় না থাকে এবং হুইল চেয়ারে করে উপরে ওঠার কোনো ব্যবস্থা না থাকে তাহলে তা শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো কাজে আসবে না।

আংশিক অ্যাসেসেবল হচ্ছে শিশুরা তাদের স্কুল ভবনে ঢুকতে পারে ক্লাসেও যেতে পারে। কিন্তু স্কুলের বিভিন্ন অংশই তাদের ব্যবহার অযোগ্য রয়ে যায়।

২০১৮ সালে এএফসি তার জরিপে জানতে পারে ১৯.৫% স্কুলে পুরোপুরি প্রবেশ সুবিধা রয়েছে। তাও সম্ভব হয় ২০১৫ সালে ৭৫০ মিলিয়ন ডলারের একটি বরাদ্দ পাওয়ার কারণে। এখনো অনেক কিছু করার বাকি রয়েছে।

আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে চিত্রটি পাল্টে দিতে হলে এখনো ১.২৫ বিলিয়ন ডলার অর্থ প্রয়োজন। এই বরাদ্দ পেলে সিটির ৫০% স্কুলকে অ্যাকসেসেবল করে তোলা সম্ভব হবে।

সর্বশেষ