ডব্লিউএসটি ফাউন্ডেশনকে ১০ হাজার ডলার অনুদান কেএআইএফ ফাউন্ডেশনের


প্রকাশিত: ১৬ মে ২০২৩, ০৬:০৫
...
যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি আমেরিকান আবুবকর হানিপের মালিকানাধীন প্রথম বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজিতে প্রথমবারের মতোই ঘটলো আরও একটি ঘটনা। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ফাউন্ডেশনে দশ হাজার ডলারের অনুদান এসেছে। আর সে অনুদানও এসেছে শিক্ষানুরাগী একটি বাংলাদেশি আমেরিকান পরিবারের পক্ষ থেকে। পরিবারে সদস্যদের নামে গঠিত কেএআইএফ ফাউন্ডেশনে এই অনুদান দিয়েছে। যার প্রধান উদ্যোক্তা অধ্যাপক ড. ফায়জুল ইসলাম।

গত ১৩ মে ডব্লিউইউএসটির ভার্জিনিয়াস্থ ক্যাম্পাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর আবুবকর হানিপের হাতে এই চেক তুলে দেন ড. ফায়জুল। এসময়ে তিনি বলেন, এই ছোট অনুদানের মাধ্যমে কিছু মানুষের উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন যেমন পূরণ হবে, প্রকৃত কিছু মেধাবী শিক্ষার্থীর জন্য তাদের জীবন গঠনে কাজে আসবে এবং এর মাধ্যমে তৈরি হবে সফলতার অনেক গল্প।

তিনি আরও বলেন, তার দেখানো পথ ধরে সমাজের প্রতিষ্ঠিত আরও অনেকেই এগিয়ে আসবেন এটাই তার কামনা। এই দারুন কিছুর শুরুটা তার হাত ধরে হওয়ায় তিনি আনন্দিত। তারচেয়ে খুশি হবেন যখন দেখতে পাবেন তার দেওয়া এই অনুদানে কোন শিক্ষার্থী উচ্চ শিক্ষা সম্পন্ন করেছেন।

আর চেক হাতে নিয়ে আবুবকর হানিপ বলেন, এই অনুদানকে টাকার অংকে মূল্যায়ন করা সম্ভব নয়। এই অনুদান কিছু শিক্ষার্থীর জীবনটাকেই বদলে দিতে ভূমিকা রাখবে।

গত দেড় যুগের বেশি সময় ধরে ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ তার পিপলএনটেক মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশে হাজার হাজার মানুষের জীবন বদলে দেবার পেছনে সরাসরি ভূমিকা রেখে আসছেন। এখন তিনি তার শিক্ষাসেবা পৌছে দিচ্ছেন ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির মাধ্যমে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেধাবী শিক্ষার্থীদের উচ্চ শিক্ষার স্বপ্ন পূরণে ভালোবাসার হাত রাখতে চালু করেছেন ডব্লিউইউএসটি ফাউন্ডেশন। সেই ফাউন্ডেশনেই প্রথম ব্যাক্তি হিসেবে ড. ফয়জুল ইসলামের এমন মহতি পদক্ষেপের প্রশংসা করেন আবুবকর হানিপ।

ড. ফায়জুল ইসলাম ৪১ বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করে আসছেন। তিনি অর্থনীতি বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন ইউনির্ভাসিটি অব মেরিল্যান্ডের গ্লোবাল ক্যাম্পাসে। পাশাপাশি ২৬ বছর কাজ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের বিভিন্ন দফতরে। ব্যস্ত কর্ম জীবনের পাশাপাশি তিনি বহু দিন ধরেই সামাজিক উন্নয়নে নানাভাবে কাজ করে আসছেন।

ড. ফায়জুল জানান, তার পরিবারের তিন প্রজন্মের সদস্যদের নামের আদ্যাক্ষর দিয়ে এই ফাউন্ডেশনের নামকরণ করা হয়েছে। আর পরিবারের সদস্যদের অর্জিত অর্থেই এর তহবিল গঠিত। ফাউন্ডেশনের অধীনে এরই মধ্যে বাংলাদেশের নোয়াখালীতে একটি কম্পিউটার ল্যাব চালু হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এই ল্যাব চালু করতে বাংলাদেশে তিনি সহযোগিতা পেয়েছেন পিপলএনটেক থেকে। পিপলএনটেক থেকেই যেখানে বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে ।

ড. ফয়জুল জানান এই অনুদানের অংশ হিসাবে প্রতিবছর দশ হাজার ডলার করে পাবে ডব্লিউইউএসটি ফাউন্ডেশন। ছয় মাস অন্তর অন্তর দুই কিস্তিতে অর্থ প্রদান করা হবে। তার প্রত্যাশা বাংলাদেশে কোন মেধাবী শিক্ষার্থীকে (বিশেষ করে ছাত্রী) এই স্কলারশিপে অগ্রাধিকার দেয়া হোক।

অনুদান হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির প্রেসিডেন্ট হাসান কারাবার্ক। তিনি বলেন, অনেক ছাত্রছাত্রীর জন্য ভাগ্যের দরজা খুলে দিয়েছেন জন্য ড. ফায়জুল ইসলাম ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএফও ফারহানা হানিপ বলেন, ডব্লিউইউএসটি ফাউন্ডেশনের জন্য এ এক অনেক আনন্দের দিন। নতুন এক দিগন্তের উম্মোচন হলো এই অনুদানের মাধ্যমে।

সাংবাদিক ও গণমাধ্যম ব্যাক্তিত্ব কবিতা দেলোয়ার বলেন ড. ফয়জুল ইসলাম তার সীমিত আয়ের মধ্যে মানুষের জন্য কিছু করার এক মহতি উদ্যোগ দেখিয়েছেন এবং তার মধ্য দিয়ে সকলের মধ্যেই কিছু করার এক তাড়না জাগিয়ে দিয়েছেন।

এই আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষাবীদ, ব্যবসায়ী , আইটি বিশেযজ্ঞ, ব্যাংকার, কমিউনিটির নেতৃবৃন্দ ও ডিএমভি এলাকার সফল সব ব্যক্তিবর্গ। তারা অধ্যাপক ড. ফায়জুল ইসলামের এই মহতি উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান। সেই সাথে পিপলএনটেক ও ডব্লিউইউএসটির মাধ্যমে ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ যেভাবে হাজার মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন তার ভূয়সী প্রশংসা করেন। একই সাথে সকলে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন ডব্লিউইউএসটি ফাইন্ডেশনের পাশে থাকার।

অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনা করেন ডব্লিউইউএসটির মার্কেটিং ডিরেক্টর হোসে ওর্তেগা। মধ্যাহ্ন ভোজের মধ্য দিয়ে শেষ হয় আয়োজন। তবে সবাই ফিরেছেন নিজের মানুষের জন্য কিছু করার প্রেরণা সাথে নিয়ে ।

সর্বশেষ