নায়ক ফারুকের চির বিদায়

বাংলা পত্রিকা ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৫ মে ২০২৩, ১৯:০৫
...
নায়ক ফারুক ছবি : গুগল
বাংলা চলচ্চিত্রের অভিনেতা সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা আকবর হোসেন পাঠান ফারুক আর নেই। দীর্ঘদিন সিঙ্গাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর গতকাল স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় তিনি ইন্তেকাল করেন। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিলো ৭৫ বছর।
তিনি স্ত্রী ফারজানাসহ দুই সন্তান রেখে গেছেন। এরা হলেন কন্যা ফারিহা তাবাসসুম পাঠান ও পুত্র রওশন হোসেন। তার মৃত্যুতে চলচ্চিত্রাঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে আসে।

ফারুকের লাশ আজ মঙ্গলবার ভোরের ফ্লাইটে ঢাকায় আসার পর বিমানবন্দর থেকে গুলশানের বাসায় নিয়ে যাওয়া হবে। সেখান থেকে সকাল ১১টায় লাশ সর্বস্থরের মানুষের শ্রদ্ধার জন্য শহীদ মিনারে নেয়া হবে। সেখানে বেলা একটা পর্যন্ত লাশ রাখা হবে। এরপর তার গ্রামের বাড়ী গাজীপুরের কালীগঞ্জে লাশ নেয়া হবে। সেখানে আবারো জানাজার পর তুমলিয়া ইউনিয়নে সোম টিওরী কেন্দ্রীয় জামে মসজিদেও কাছে পারিবারিক কবরস্থানে বাবার পাশে তিনি শায়িত হবেন।

নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ২০২১ সালের মার্চের প্রথম সপ্তাহে সিঙ্গাপুরে গিয়েছিলেন ফারুক। তখন রক্তে সংক্রমণ ধরা পড়লে মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে ভর্তি হন। সিঙ্গাপুরে নেয়ার পর প্রায় চার মাস ধরে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রেখে চিকিৎসা দিতে হয়েছিল তাকে। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় মাস ছয়েক পরে তাকে কেবিনে নেয়া হয়। এরপর থেকে হাসপাতালেই ছিলেন তিনি।

১৯৪৮ সালের ১৮ অগাস্ট পুরান ঢাকায় ফারুকের জন্ম। পুরো নাম আকবর হোসেন পাঠান দুলু, বাবার নাম আজগার হোসেন পাঠান। পাঠান পরিবারের এই সন্তানের বেড়ে ওঠা পুরান ঢাকায়। ছাত্র বয়সেই ছাত্রলীগে জড়িয়ে পড়েন ফারুক। তিনি চিলেন মুক্তিযোদ্ধা।

তবে মুক্তিযুদ্ধের আগেই সিনেমায় নাম লিখিয়েছিলেন এই নায়ক, ‘জলছবি’ নামের সেই সিনেমা মুক্তি পায় একাত্তরে। প্রথম সিনেমাতে তার নায়িকা ছিলেন কবরী। যে জুটি আজও স্মৃতিতে উজ্জ্বল ‘সুজনসখী’ নামে।

ক্যারিয়ারে প্রথম থেকে ফারুক নজর কেড়েছিলেন নির্মাতা খান আতাউর রহমানের। যার হাত ধরে একটু একটু করে এগিয়েছিলেন তিনি। এরপর আমজাদ হোসেন, নারায়ণ ঘোষ মিতা, প্রমোদ করের মতো পরিচালকরা তাদের সিনেমায় বেছে নেন ফারুককে।

সারেং বউ, লাঠিয়াল, নয়নমণি, গোলাপী এখন ট্রেনে, দিন যায় কথা থাকে, জনতা এক্সপ্রেস, সাহেব, মিয়াভাই, নাগরদোলা, সুজনসখী, ঘরজামাই, ভাইভাই, বিরাজ বৌ এর মতো চলচ্চিত্রে অভিনয় করে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের ইতিহাসে এক অনন্য জায়গায় নিজেকে নিয়ে যান খ্যাতিমান এই অভিনেতা।

১৯৪৮ সালের ১৮ অগাস্ট পুরান ঢাকায় ফারুকের জন্ম। পুরো নাম আকবর হোসেন পাঠান দুলু, বাবার নাম আজগার হোসেন পাঠান। পাঠান পরিবারের এই সন্তানের বেড়ে ওঠা পুরান ঢাকায়।ছাত্র বয়সেই ছাত্রলীগে জড়িয়ে পড়েন ফারুক।

ফারুক এইচ আকবর পরিচালিত ‘জলছবি’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে ১৯৭১ সালে ঢাকাই সিনেমায় তাঁর অভিষেক। প্রথম সিনেমায় তাঁর বিপরীতে ছিলেন কবরী। এরপর ১৯৭৩ সালে খান আতাউর রহমানের পরিচালনায় মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ‘আবার তোরা মানুষ হ’ এবং ১৯৭৪ সালে নারায়ণ ঘোষ মিতার ‘আলোর মিছিল’ দুটি সিনেমায় পার্শ্বচরিত্রে অভিনয় করেন তিনি।

প্রায় পাঁচ দশক ঢালিউডে অবদান রেখেছেন অভিনেতা ফারুক। অভিনয় থেকে অবসর নেয়ার পর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে ঢাকা-১৭ আসনে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

অভিনয়ের জন্য ১৯৭৫ সালে শ্রেষ্ঠ পার্শ্ব অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। ২০১৬ সালে ভূষিত হয়েছেন আজীবন সম্মাননায়। তার অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবির মধ্যে রয়েছে সারেং বৌ, লাঠিয়াল, সুজন সখী, নয়নমনি, মিয়া ভাই, গোলাপী এখন ট্রেনে, সাহেব, আলোর মিছিল, দিন যায় কথা থাকে ইত্যাদি।
তিনি ১৯৭৬ সালে মুক্তি পায় তার অভিনীত তিনটি ছায়াছবি সূর্যগ্রহণ, মাটির মায়া ও নয়নমনি। চলচ্চিত্র তিনটি বিভিন্ন বিভাগে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করে। পরের বছর শহীদুল্লাহ কায়সার রচিত কালজয়ী উপন্যাস সারেং বৌ অবলম্বনে নির্মিত সারেং বৌ ও আমজাদ হোসেন পরিচালিত গোলাপী এখন ট্রেনে চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন। চলচ্চিত্র দুটি নারীকেন্দ্রিক হলেও তার অভিনয় সমালোচকদের প্রশংসা অর্জন করে। ১৯৭৯ সালে তার অভিনীত নাগরদোলা, দিন যায় কথা থাকে, কথা দিলাম, মাটির পুতুল, সাহেব, ছোট মা, এতিম, ঘরজামাই চলচ্চিত্রগুলো ব্যবসাসফল হয়। ১৯৮০ সালে সখী তুমি কার ছায়াছবিতে শাবানার বিপরীতে শহুরে ধনী যুবকের চরিত্রে অভিনয় করে সমালোচকদের প্রশংসা লাভ করেন। ১৯৮৭ সালে মিয়া ভাই চলচ্চিত্রের সাফল্যের পর তিনি চলচ্চিত্রাঙ্গনে মিয়া ভাই হিসেবে পরিচিতি লাভ করেন।
তখনকার সময়ে এমন সুদর্শন যুবক ও নিপুণ অভিনয় দেখে ফারুক খুব সহজেই প্রবেশ করেন বড় পর্দায়।

তার বিপরীতে অভিনয় করেন বাংলা চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি সব অভিনেত্রী। তার মধ্যে রয়েছেন কবরী, ববিতা, সুচরিতা, রোজিনা, সূচন্দা, অঞ্জুঘোষ, অঞ্জনা, শাবানা, নিপা মোনালিসা, সুনেত্রাসহ আরো অনেক নায়িকারা। সত্তর ও আশির দশকের সব শীর্ষ নায়িকার বিপরীতে কাজ করলেও ববিতা-ফারুক জুটিই ছিল সবচেয়ে জনপ্রিয়।
চলচ্চিত্রের বাইরে ফারুক একজন ব্যবসায়ী। অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান বর্তমানে গাজীপুরে অবস্থিত শিল্পপ্রতিষ্ঠান ফারুক নিটিং ডায়িং অ্যান্ড ম্যানুফ্যাকচারিং কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন দীর্ঘদিন।

সর্বশেষ

সর্বশেষ