সিলেটে সরগরম তৃণমূল রাজনীতি

ডেস্ক রিপোর্ট
প্রকাশিত: ২ অক্টোবর ২০২২, ১৩:১০
...

সিলেট নগরে তৃণমূলে সরগরম রাজনীতি। দল গোছানোর প্রক্রিয়ায় আওয়ামী লীগ ও বিএনপি’র নেতারা তৃণমূল সাজাতে শুরু করেছেন। পাড়ায় পাড়ায় চলছে ঘরোয়া বৈঠক, সম্মেলন ও কাউন্সিল। দলীয় এ কার্যক্রমে ব্যাপক সাড়া পাচ্ছে উভয় দলই। কোথাও কোথাও প্রার্থী বেশি হওয়ার কারণে ভোটে নির্বাচন করা হচ্ছে নতুন নেতৃত্ব। সিলেট নগর আওয়ামী লীগের নেতারা জানিয়েছেন, মহানগরে প্রায় ১৫ বছর ধরে তৃণমূল গোছানো হয়নি। সর্বশেষ সাবেক মেয়র বদরউদ্দিন   আহমদ কামরান সভাপতি থাকাকালে সিলেট নগর আওয়ামী লীগের কমিটিকে সাজিয়েছিলেন। এরপর আর কেউ তৃণমূলে হাত দেয়নি। ২০১৯ সালের শেষ দিকে গঠন করা হয়েছিল মহানগর আওয়ামী লীগের কমিটি। ওই কমিটি শুরুতেই তৃণমূল সাজাতে কাজ শুরু করার কথা থাকলেও করোনা, বন্যার কারণে আর গঠন করা সম্ভব হয়নি।

এবার গত ১লা সেপ্টেম্বর থেকে নগর আওয়ামী লীগের ওয়ার্ড সম্মেলন শুরু হয়েছে। গত এক মাসে ৯টি ওয়ার্ড কমিটি গঠন করা হয়েছে। চলতি মাসের মধ্যে ২৭ ওয়ার্ডের পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মহানগর আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতারা। তারা জানিয়েছেন, আগামী বছর সিলেট সিটি করপোরেশনের নির্বাচন। এরপর হবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দুটি নির্বাচনকে সামনে রেখে এবার আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে বিজয়ী করতে নগরে দল গোছানো হচ্ছে। প্রতিটি ওয়ার্ডে গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব আনতে কাজ করছেন মহানগর নেতারা। 

যেসব এলাকায় সমঝোতায় কমিটি গঠন করা সম্ভব হচ্ছে না সেখানে ভোটের মাধ্যমে নেতৃত্ব বাছাই করা হচ্ছে। এতে প্রাধান্য পাচ্ছেন মাঠ পর্যায়ের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীরা। মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মাসুক উদ্দিন আহমদ মানবজমিনকে জানিয়েছেন, দীর্ঘ দিন ধরে মহানগর আওয়ামী লীগের অধিভুক্ত ওয়ার্ডগুলোতে কমিটি গঠন করা হয়নি। আমাদের আরও আগে এ কার্যক্রম শুরু করার কথা ছিল। কিন্তু করোনা সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে শুরু করা সম্ভব হয়নি। এবার কেন্দ্রের অনুমতি নিয়ে আমরা এক মাস ধরে কাজ চালাচ্ছি। তিনি জানান, মাঠ পর্যায়ের ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাদের কমিটি গঠনে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। যারা দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ তাদের নেতৃত্বে আনা হচ্ছে। মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি বিজিত চৌধুরী জানিয়েছেন, এ পর্যন্ত তারা ৯ ওয়ার্ডের সম্মেলন ও কাউন্সিল শেষ করেছেন। আগামী এক মাসের মধ্যে সবক’টি ওয়ার্ডের সম্মেলন ও কাউন্সিল শেষ করার কাজ চলছে। যেসব এলাকায় সম্মেলনের আয়োজন করা হচ্ছে, সেখানে মহানগরের সিনিয়র নেতারা মনিটরিং করছেন। বহিরাগতরা যাতে দলের ভেতরে না ঢুকতে পারে সেদিকে নজর রাখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।

এদিকে- সিলেট মহানগর বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটি ইতিমধ্যে এক বছর অতিক্রম করেছে। তবে- এরই মধ্যে দলের অভ্যন্তরে কাজ হয়েছে প্রচুর। বিশেষ করে মহানগর বিএনপি’র তরফ থেকে পাড়া ও মহল্লায় কমিটি গঠনে নজর দেয়া হয়েছিল। এই কাজ এখন শেষ করা হয়েছে। এটি ছিল মহানগর বিএনপি’র তৃণমূলের জন্য চ্যালেঞ্জ। কারণ- পাড়া-মহল্লার কমিটিতে ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের নিয়ে আসার কাজ ছিল দুরূহ। সেটি মহানগর বিএনপি গঠিত ৯টি সাংগঠনিক কমিটির নেতারা তদারকি করেছেন। পরপর দু’দফা বন্যা থাকার কারণে কাজ শুরু করতে বিলম্ব হয়। পরে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের সঙ্গে মহানগর বিএনপি’র নেতারা দুই মাস আগে ভার্চ্যুয়াল বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে অক্টোবরের মধ্যে মহানগর বিএনপি’র সম্মেলন শেষ করার সময়সীমা বেঁধে দেয়া হয়। এরপর থেকে মহানগর বিএনপি’র নেতারা প্রথমে ২৭টি ওয়ার্ডের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেন। ওই কমিটির মাধ্যমে তৃণমূলকে সাজান। প্রায় ১৫ দিন আগে আহ্বায়ক কমিটি গঠন প্রক্রিয়া শেষ করা হয়। এখন শুরু করা হয়েছে ওয়ার্ড সম্মেলন। এর আগে পাড়া-মহল্লার কমিটি গঠনে মহানগরে বিএনপি ব্যাপক সাড়া ফেলে। এতে উঠোন বৈঠক, ঘরোয়া কার্যক্রম শেষ করা হয়।

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় মহানগর বিএনপি’র ১২নং ওয়ার্ডের সম্মেলন ও কাউন্সিল হয়। এই কাউন্সিলকে কেন্দ্র করে ওয়ার্ডে পোস্টারিং ও প্রচারণা চালানো হয়। মহানগর বিএনপি’র সদস্য সচিব মিফতাহ সিদ্দিকী জানিয়েছেন, সম্মেলনের জন্য আমাদের ২৭টি ওয়ার্ডই প্রস্তুত। আমরা আগামী ২০শে অক্টোবরের মধ্যে ওয়ার্ড সম্মেলন শেষ করতে চাই। প্রয়োজনে একদিনে দুটি ওয়ার্ডে সম্মেলন করা হবে। এতে নির্বাচন কমিশন গঠন সহ আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া এগিয়ে রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, চলতি মাসের মধ্যে সিলেট মহানগর বিএনপি’র সম্মেলন ও কাউন্সিল শেষ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা আমরা করছি। যদি এই সময়ের মধ্যে না হয়, তাহলে নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সম্মেলন ও কাউন্সিলের আয়োজন করা হতে পারে। ওয়ার্ড কাউন্সিল শেষ হলে মহানগর সম্মেলন শেষ করতে সময়ক্ষেপণ করা হবে না। তিনি জানান, যেহেতু কাউন্সিলে ভোটে মহানগর বিএনপি’র নতুন নেতৃত্ব বাছাই হবে; এ কারণে আমরা ওয়ার্ড কমিটি গঠনে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি। ওয়ার্ড শক্তিশালী হলে মহানগর কমিটি শক্তিশালী হবে। যেখানে কেন্দ্রের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন, মহানগর বিএনপি’র নেতারা সে পরামর্শও নিচ্ছেন বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে আন্দোলনও চলছে।

সর্বশেষ